শয়তানের ফাঁদে বন্দি

কাকার ছিয়ানব্বইতম জন্মদিনের অনুষ্ঠান উপলক্ষে আলোয় আলোয় সেজে উঠেছে পুরান ঢাকার একশো বছরের পুরনো খান ভিলা। বিশাল উঠানে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশ, আত্মীয়স্বজনে কিলবিল করছে চারপাশ। সুস্বাদু খাসির বিরিয়ানি আর বোরহানির সুবাসে বাতাস ভারী হয়ে আছে। এত মানুষের ভিড়ে ছাব্বিশ বছরের সামিয়া যেন একটা বাঁধভাঙা চঞ্চলতা। লালচে সূচিকর্ম করা ঘন সবুজ রঙের মসলিন শাড়ি, পেছনে গভীর পিঠখোলা ব্লাউজ, আর এলোমেলো করে খোঁপা করা চুল। তার ফর্সা কাঁধ আর নাভির ওপর শাড়ির আঁচলটা বারবার ঢিলে হয়ে নেমে যাচ্ছিল, কিন্তু সেদিকে তার বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই। সামিয়া মানেই তো একরাশ দুরন্তপনা আর অনিয়ন্ত্রিত দুষ্টুমি।

সামিয়ার এই অতি-চঞ্চলতায় পানি ঢালতে আর তাকে সামলাতে পুরো বাড়িটা যখন ব্যর্থ, তখন একজনই শুধু তার দিকে ঠান্ডা আর সতর্ক চোখে নজর রাখছিল—রাফি। সামিয়ার দূরসম্পর্কের কাজিন, ছ ফুট লম্বা, চওড়া ছাতি আর ধারালো চোয়ালের ত্রিশ বছরের এক সুদর্শন স্থপতি। গম্ভীর স্বভাবের রাফি সবসময় কম কথা বলে, কিন্তু সামিয়ার প্রতিটা পাগলামি সে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করে।

অনুষ্ঠান যখন তুঙ্গে, সামিয়ার মাথায় চেপে বসলো এক কুটিল দুষ্টুমি। রাফির ছোট ভাই নিহালকে বোকা বানানোর জন্য সে একটি পরিত্যক্ত মেহগনি খাটের আড়ালে রাখা একটা পুরনো কাঠের ট্রাঙ্ক খুলে কিছু খুঁজতে লাগলো। কিন্তু আলো-আঁধারির সেই চিপা ঘরে সামিয়াকে একা ঢুকতে দেখে পেছন পেছন পা বাড়ালো রাফি। সামিয়া ট্রাঙ্কের ওপর ঝুঁকে পড়েছিল, ব্লাউজের ডিপ কাট গলা দিয়ে তার মসৃণ বুক আর শাড়ির নিচ থেকে উন্মুক্ত কোমর স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।

রাফি ঘরে ঢুকে দরজাটা আলতো করে আটকে দিল। শক্ত পায়ে এগোতে এগোতে নিচু গলায় বললো, "এখানে কী হচ্ছে, মিস শয়তান?"

হঠাৎ রাফির পুরুষালী কণ্ঠ শুনে সামিয়া চমকে উঠে ঘুরে দাঁড়াতে গেল, কিন্তু তার শাড়ির কুঁচি ট্রাঙ্কের কোণায় আটকে গেল। ভারসাম্য হারিয়ে সামিয়া সোজা গিয়ে পড়লো রাফির শক্ত, চওড়া বুকের ওপর। রাফি এক মুহূর্ত দেরি না করে শক্ত দুই হাতে সামিয়ার সরু কোমর চেপে ধরলো। সামিয়ার বুক চেপে বসলো রাফির শক্ত ছাতির সাথে, দুজনের নিঃশ্বাস তখন এক হয়ে গেছে।

"তুমি সবসময় এত ছটফট করো কেন সামিয়া?" রাফির গলার আওয়াজ আরো ভারী আর গম্ভীর শোনালো। তার এক হাত সামিয়ার কোমর থেকে সামান্য ওপরে উঠে এলো, খালি চামড়ায় রাফির গরম হাতের ছোঁয়া লাগতেই সামিয়ার শিরদাঁড়া দিয়ে একটা বিদ্যুতের তরঙ্গ খেলে গেল।

সামিয়ার ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠলো, চোখের মনি দুটো কাঁপছে। রাফির এই ঘন রূপ সে আগে কখনো দেখেনি। রাফির শরীর থেকে চন্দনের তীব্র মিষ্টি সুবাস আসছে। সে সামিয়ার ধুকপুক করতে থাকা বুকের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলো, তারপর সামিয়ার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বললো, "আজ তোমাকে যা গরম লাগছে সামিয়া... নিজের সামলায় রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।"

সামিয়া কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই দরজার বাইরে ভারী আর একাধিক পায়ের শব্দ পাওয়া গেল। বড় চাচা, মেজো ফুফু আর আরো জনা পাঁচেক আত্মীয় চিৎকার করতে করতে ঘরের দিকে আসছে। বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠরা ছোটদের খুঁজতে বের হয়েছেন।

ধরা পড়ার ভয়ে সামিয়ার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। সে রাফির বুকে ধাক্কা দিয়ে সরে যেতে চাইলো, কিন্তু রাফি তাকে আরও শক্ত করে ধরে নিজের সাথে পিষে ফেললো। রাফির চোখের কোণে তখন এক অদ্ভুত শয়তানি খেলা করছে। সামিয়া ফিসফিস করে তোতলাতে তোতলাতে বললো, "রা... রাফি ভাইয়া, ছাড়ো! সবাই দেখে ফেলবে! ফুফু আসছে!"

রাফি সরলো না। বরং সামিয়ার ঘাড়ের কাছে নিজের গরম ঠোঁটদুটো হালকা করে ছোঁয়ালো। সামিয়া কামাতুর এক সুড়সুড়িতে চোখ বন্ধ করে ফেললো, তার শরীর অবশ হয়ে আসছিল।

ঠিক সেই মুহূর্তে দরজার কবাট দুটো হা করে খুলে গেল। আলো এসে পড়লো ঘরের ভেতর।

বড় চাচা আর ফুফুরা দরজায় দাঁড়িয়ে দৃশ্যটা দেখে একদম থ হয়ে গেলেন। আলো-আঁধারি ঘরে সামিয়াকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে আছে রাফি, সামিয়ার আঁচল খসে পড়েছে, ব্লাউজের সুতো আলগা, আর রাফির শক্ত হাত জড়ানো সামিয়ার উন্মুক্ত কোমরে। দৃশ্যটা যেকোনো চোখেই অত্যন্ত নিবিড় আর ঘনিষ্ঠ এক দম্পতির মূহুর্ত বলে মনে হবে।

মেজো ফুফু বুকে হাত দিয়ে ওরে বাবা রে বলে চিৎকার করে উঠলেন, "এ কী কাণ্ড! তোরা দুজন এখানে কী করছিস?"

সামিয়া আতঙ্কে কাঠ হয়ে গেল। সে মুখ খুলে সত্যিটা বলতে যাবে, যে সে শুধু নিহালকে ভয় দেখাতে এসেছিল আর শাড়ি আটকে গিয়ে পড়ে গেছে—কিন্তু তার আগেই খেলা ঘুরিয়ে দিল রাফি।

রাফি সামিয়ার কোমর থেকে হাত না সরিয়ে, বরং আরো আধিপত্যের সাথে তাকে নিজের শরীরের সাথে জড়িয়ে ধরে বেশ শান্ত ভঙ্গিতে দরজার দিকে তাকালো। মুখের মধ্যে মারাত্মক এক আভিজাত্য আর দুষ্টুমি মিশিয়ে সে গম্ভীর গলায় ঘোষণা করলো, "আপনারা মিছামিছি চেঁচামেচি করছেন কেন চাচা? সামিয়া এখন আর শুধু আপনাদের ভাতিজি না, ও এখন অন্য কারো আমানত। আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই সম্পর্কে আছি। সত্যি বলতে, ও এখন মনে মনে আমার বউই হয়ে গেছে, শুধু কবুল বলা বাকি।"

সামিয়ার বুক যেন ধপ করে উঠলো। তার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিল। চোখ দুটো গোল গোল করে সে রাফির ধারালো থুতনির দিকে তাকালো। রাফি সামিয়ার দিকে তাকিয়ে এক চোখ টিপ মারলো, তারপর অত্যন্ত আদরের সাথে সবার সামনেই সামিয়ার কপালে টিপে দিল এক উষ্ণ, গভীর চুমু। সামিয়ার পুরো শরীর শিউরে উঠলো, গায়ের পশম দাঁড়িয়ে গেল। রাফির ঠোঁটের সেই উত্তাপ সামিয়ার কপাল ছাড়িয়ে যেন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়লো।

বড় চাচা আর ফুফুরা আনন্দে আড়ষ্ট হয়ে গেলেন। "বলো কী! রাফি আর সামিয়া? এতদিন ধরে এই ব্যাপার চলছিল? আমরা তো ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি!" ফুফু দৌড়ে এসে সামিয়ার গাল টিপে দিলেন, "ওরে আমার লজ্জাবতী বউরে! তাই বলি মেয়েটার রূপ আজকাল এত ফুটছে কেন!"

বাড়িময় মুহূর্তের মধ্যে খবর রাষ্ট্র হয়ে গেল—রাফি আর সামিয়া একে অপরকে ভালোবাসে, আর ঘরের ভেতরেই তাদের জামাই-বউয়ের মতো অন্তরঙ্গ অবস্থায় পাওয়া গেছে!

সবাই যখন জল্পনা-কল্পনা আর বিয়ের ডেট ঠিক করার আনন্দে নিচে নেমে গেল, ঘরে রইলো শুধু তারা দুজন। সামিয়া রাফির বুকে থাপ্পড় মেরে চিল চিৎকার করে উঠতে গেল, "তুমি কী পাগলামি করলে রাফি?! বউ মানে কী? আমি তোমার বউ হতে গেলাম কবে? মাথা খারাপ হয়েছে তোমার? এখন আমি সবাইকে কী বলবো?"

রাফি ধীরপায়ে এগিয়ে এসে সামিয়াকে দরজার কাঠের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড় করালো। তার দুটো হাত সামিয়ার মাথার দুপাশে কাঠের ওপর চেপে বসলো, সামিয়াকে পুরোপুরি বন্দি করে ফেললো তার শরীরের খাঁচায়।

রাফি সামিয়ার ঠোঁটের এত কাছে মুখ নিয়ে এলো যে তাদের ঠোঁট ছোঁই-ছোঁই। রাফির চোখের দৃষ্টিতে এখন এক গভীর, আদিম নেশা। সে নিচু গলায় বললো, "তুমিই তো খেলাটা শুরু করেছিলে সামিয়া। দুষ্টুমি করার শখ জেগেছিল না? এবার এই দুষ্টুমির খেসারত দিতে হবে। এখন তুমি পুরো খান পরিবারের চোখে রাফির হবু বউ। আর রাফির বউ হতে গেলে কী কী করতে হয়, জানো তো?"

রাফির উত্তপ্ত নিঃশ্বাস সামিয়ার খোলা গলায় আর বুকে গিয়ে আছড়ে পড়ছিল। সামিয়ার বুক দ্রুত ওঠানামা করছে, সে রাফির চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার মতো কোনো ভাষা খুঁজে পেল না। রাফির একটা হাত সামিয়ার উরুর ওপর শাড়ির ভাঁজ ঠেলে ভেতরে ঢুকে গেল, আলতো চাপ দিল উন্মুক্ত চামড়ায়। সামিয়ার মুখ থেকে এক চরম তৃপ্তিকর কিন্তু অস্ফুট আাঁকুপাঁকু শব্দ বের হয়ে এলো।

সামিয়া বুঝতে পারলো, যে দুষ্টুমির ফাঁদ সে পেতেছিল, সে নিজেই এখন রাফির পাতা এক চরম অনিয়ন্ত্রিত কামনার ফাঁদে আটকা পড়ে গেছে। আর এই ঝামেলা থেকে বের হওয়া তো দূরের কথা, রাফির ছোঁয়ায় তার নিজের শরীরই এখন বিশ্বাসঘাতকতা করতে শুরু করেছে।

মেহগনি কাঠের দরজাটার সাথে সামিয়াকে চেপে ধরে রাখা রাফির হাত দুটো এখন আরও বেশি বেপরোয়া। সামিয়ার উরুর নগ্ন চামড়ায় রাফির আঙুলের সুড়সুড়ি আর উষ্ণ স্পর্শে তার সমস্ত স্নায়ু অবশ হয়ে আসছে। তার বুক দ্রুত ওঠানামা করছে, যার ফলে ব্লাউজের ভেতরের নিটোল বুক দুটো বারবার রাফির শক্ত ছাতির সাথে ঘষা খাচ্ছে।

"রা... রাফি, ছাড়ো... নিচে সবাই অপেক্ষা করছে," সামিয়া কোনোরকমে নিজের কাঁপতে থাকা কণ্ঠস্বর কুড়িয়ে এনে ফিসফিস করে উঠলো। কিন্তু সেই আকুতিতে প্রতিরোধের চেয়ে কামনার স্পষ্ট আমন্ত্রণ ছিল বেশি।

রাফি এক চুলও সরলো না। বরং তার এক হাত সামিয়ার কোমর পেঁচিয়ে ধরে তাকে আরেকটু ওপরে তুলে নিজের শরীরের সাথে সেঁটে নিল। রাফির সুগঠিত পুরুষাঙ্গের স্পষ্ট উত্তাপ আর শক্ত অনুভূতি সামিয়ার তলপেটে এসে বিঁধতেই সামিয়ার চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে এলো। সে কামনায় অন্ধ হয়ে রাফির কাঁধ দুটো আঁকড়ে ধরলো।

"নিচে সবাই কী ভাবছে তা তো তুমি শুনেই এসেছো, সামিয়া," রাফি মুখ নামিয়ে সামিয়ার থুতনিতে আলতো করে কামড় দিল, তারপর ঠোঁট ঘষতে ঘষতে নেমে এলো তার সুডৌল গলায়। "ওরা ভাবছে আমরা প্রেম করছি। আর হবু বউকে এভাবে একলা ঘরে পেয়ে কোনো পুরুষ কি ছেড়ে দেয়?"

সামিয়ার ঘাড়ের নরম চামড়ায় রাফির গরম ঠোঁটের স্পর্শ লাগতেই সে মাথা পিছন দিকে হেলিয়ে দিল। তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো এক মৃদু গোঙানি, "উফফ... রাফি..."

রাফির উত্তপ্ত ঠোঁট সামিয়ার খোলা কাঁধ আর ব্লাউজের ওপর দিয়ে নেমে এলো তার খোলা পিঠে। সামিয়ার শাড়ির আঁচলটা ততক্ষণে সম্পূর্ণ খসে মেঝেতে পড়েছে। ব্লাউজের পেছনের ফিতেটা এক টানে আলগা করে দিল রাফি। সাথে সাথেই সামিয়ার ফর্সা উন্মুক্ত পিঠে আছড়ে পড়লো রাফির তৃষ্ণার্ত ঠোঁটের উষ্ণতা।

সামিয়া নিজের অজান্তেই রাফির চুলে হাত গলিয়ে দিল, তাকে আরও গভীরে টেনে নিতে চাইলো। তাদের দুজনের নিঃশ্বাসের উত্তাপে ঘরের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। যে দুষ্টুমি সামিয়া শুরু করেছিল, তা এখন এক তীব্র শারীরিক কামনায় রূপ নিয়েছে। সামিয়া নিজেকে সামলানোর সব ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল, কিন্তু ঠিক তখনই নিচতলা থেকে উচ্চস্বরে মেজো ফুফুর ডাক ভেসে এলো—

"রাফি! সামিয়া! নিচে আয় তোরা! তোদের বিয়ের তারিখ নিয়ে কথা হবে!"

ডাকটা শুনেই সামিয়ার চেতনা যেন ধাক্কা খেল। সে চমকে উঠে রাফির বুক থেকে নিজেকে আলাদা করার চেষ্টা করলো। রাফিও এক মুহূর্ত থামলো, তার চোখে তখন চরম তৃষ্ণা আর কামনার লালসা জ্বলজ্বল করছে। সে সামিয়ার ঠোঁটে এক দীর্ঘ, গভীর আর রসালো চুমু খেয়ে আলতো করে সরে দাঁড়ালো। সামিয়ার ভেজা ঠোঁট দুটো তখন লাল হয়ে উঠেছে, তার বুক তখনও হাঁপানির মতো কাঁপছে।

"খেলা কেবল শুরু হলো, সামিয়া। ব্লাউজের ফিতেটা বেঁধে নাও, নিচে যেতে হবে," রাফি কুটিল এক হাসি হেসে নিজের শার্টের কলারটা ঠিক করে নিল।

সামিয়া কাঁপা কাঁপা হাতে শাড়ির আঁচলটা গায়ে জড়িয়ে ব্লাউজের ফিতে বাঁধলো। আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে সে নিজেই নিজেকে চিনতে পারছিল না—চোখে কামনার লাল আভা, ঠোঁট দুটো ফোলা আর চিবুকে রাফির ঠোঁটের চিহ্ন। রাফি তাকে স্রেফ বোকা বানিয়ে নিজের ফাঁদে ফেলে দিয়েছে, কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো—সামিয়া সেই ফাঁদে পা দিয়ে এক অদ্ভুত আনন্দ পাচ্ছে!

দুজনে যখন নিচে নেমে এলো, খান ভিলার ড্রয়িং রুমে তখন উৎসবের মেজাজ। বড় চাচা সোফায় বসে আছেন, পাশে ফুফু আর বাকি সবাই। সামিয়া দরজার কাছে আসতেই সবাই একসাথে হেসে উঠলো।

"এই তো আমাদের হবু বউ চলে এসেছে!" ফুফু এগিয়ে এসে সামিয়ার হাত ধরে সোফায় বসিয়ে দিলেন। "লজ্জায় মুখটা কেমন লাল হয়ে আছে দেখেছিস?"

সামিয়া মুখ নিচু করে রইলো। সে রাফির দিকে এক নজর তাকালো। রাফি অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সোফার হাতলে হাত রেখে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেন কিছুক্ষণ আগে ওপরের ঘরে সে সামিয়ার শরীর নিয়ে কোনো তোলপাড় সৃষ্টি করেনি!

বড় চাচা গলার কাশি পরিষ্কার করে বললেন, "শোন রাফি, তোরা যে একে অপরকে পছন্দ করিস, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। খান বাড়ির মেয়ে খান বাড়িতেই থাকবে, এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে? আগামী মাসেই আমরা শুভ কাজটা সেরে ফেলতে চাই।"

আগামী মাসে বিয়ে! কথাটা শুনে সামিয়ার বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠলো। সে আঁতকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো, "চাচা! মানে... এত তাড়াতাড়ি?"

ফুফু হেসে উঠে বললেন, "তাড়াতাড়ি কিসের রে সামিয়া? তোরা তো মনে মনে বিয়ের কাজ শেষ করেই ফেলেছিস! রাফি তো পরিষ্কার বলেই দিল যে তোদের গোপন প্রেম চলছে।"

সামিয়া রাফির দিকে রাগান্বিত চোখে তাকালো। রাফি একটুখানি ঝুঁকে সামিয়ার ঠিক পেছনে এসে দাঁড়ালো। সামিয়াকে আড়াল করে, সবার অলক্ষ্যে সে তার ডান হাতটা সামিয়ার শাড়ির পেছন দিয়ে ঢুকিয়ে দিল। তার শক্ত আঙুলগুলো সামিয়ার কোমরের বাঁকে চেপে বসলো।

সামিয়ার শরীর আবার শিউরে উঠলো। সে চিল্লাতে চাইলো, কিন্তু রাফির আঙুলের চাপ বাড়তেই তার গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না।

রাফি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বড় চাচাকে বললো, "চাচা, সামিয়া আসলে একটু লজ্জা পাচ্ছে। এত তাড়াতাড়ি বিয়ের আয়োজন শুনে ও একটু নার্ভাস। কিন্তু আপনি যা বলবেন তাই হবে। আগামী মাসেই আয়োজন করুন, আমার কোনো আপত্তি নেই।"

কথাটা শেষ করেই রাফি সামিয়ার পিঠের নিচের অংশে নিজের আঙুল দিয়ে আলতো সুড়সুড়ি দিল। সামিয়া দাঁতে দাঁত চেপে নিজের কামোত্তেজনা আর রাগ সামলানোর চেষ্টা করলো। সে বুঝতে পারছিল, সে যত প্রতিক্রিয়া দেখাবে, রাফি তত বেশি তাকে স্পর্শের সুযোগ নেবে।

সবাই যখন হাসাহাসি আর বিয়ের মিষ্টি বিতরণে ব্যস্ত হয়ে পড়লো, সামিয়া রাফির হাতটা ঝটকা মেরে সরিয়ে দিল। সে ফিসফিস করে তীব্র গলায় বললো, "তুমি সীমা পার করছো রাফি! সত্যিটা সবাইকে বলে দাও, নইলে আমি কিন্তু বিষ খেয়ে মরে যাবো!"

রাফি এক পা এগিয়ে এসে সামিয়ার শরীরের একেবারে গা ঘেঁষে দাঁড়ালো। এত মানুষের ভিড়েও তাদের শরীর ছুঁয়ে আছে। সে সামিয়ার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বললো, "বিষ খাওয়ার দরকার নেই সামিয়া। তার চেয়ে বরং আমার ঠোঁটের বিষ চেখে দেখো। আর সত্যিটা যদি বলতে চাও, বলতে পারো... কিন্তু ফুফু যখন শুনবে তুমি মেহগনি ঘরে আমার সাথে শাড়ির আঁচল খুলে কী করছিলে, তখন কি কেউ তোমার সত্যি বিশ্বাস করবে?"

সামিয়ার কথা আটকে গেল। রাফি ঠিকই বলেছে। ঘরের ভেতরের যে দৃশ্য সবাই দেখেছে, তাতে কেউ বিশ্বাস করবে না যে এটা নিছক একটা ভুল ছিল।

"তাহলে এখন কী হবে?" সামিয়া ভয়ার্ত চোখে তাকালো।

রাফি সামিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে তার কোমরটা আবার শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিজের কাছে টেনে নিল, "এখন সেটাই হবে যা আমি চাইবো। তুমি আমার হবু বউয়ের ভূমিকা পালন করবে, আর আমি তোমার হবু জামাইয়ের দায়িত্ব পালন করবো... প্রতিটা রাতে।"

সামিয়ার শরীর গরম হয়ে উঠলো। সে বুঝতে পারলো, এই বিপদ থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো পথ নেই। রাফির চতুরতা আর তার শরীরের এই নিয়ন্ত্রণ সামিয়াকে এক নতুন, বিপজ্জনক আর অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত অনুভূতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিয়ের তারিখ পাকা হওয়ার পর থেকেই খান ভিলায় আত্মীয়স্বজনের যাতায়াত আরও বেড়ে গেল। কিন্তু সামিয়ার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। রাফি যে এত নিখুঁতভাবে খেলাটা ঘুরিয়ে দেবে, তা সে স্বপ্নেও ভাবেনি। সামিয়া তার নিজের ঘরের বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করছিল, শরীরে এক অদ্ভুত অস্বস্তি আর উত্তাপ। প্রতিবার চোখ বন্ধ করলেই রাফির সেই গরম ছোঁয়া আর উরুর ফাঁকে তার আঙুলের সুড়সুড়ি মনে পড়ে যাচ্ছিল।

রাত তখন প্রায় একটা। পুরো বাড়ি নিঝুম হয়ে এসেছে। সামিয়া বিছানা থেকে উঠে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি খাওয়ার জন্য নিচে নামার সিদ্ধান্ত নিল। তার পরনে একটা হালকা গোলাপি রঙের পাতলা সুতির নাইটি, যার ওপর দিয়ে তার শরীরের মসৃণ বাঁকগুলো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। কোনো ওড়না না জড়িয়েই সে নিঃশব্দে ঘরের দরজা খুলে করিডোরে বের হয়ে এলো।

করিডোরের আবছা আলোয় হেঁটে সিঁড়ির দিকে যেতেই হঠাৎ পেছন থেকে একটা বলিষ্ঠ হাত এসে সামিয়ার মুখ চেপে ধরলো, আর অন্য হাতটা পেঁচিয়ে ধরলো তার সরু কোমর। সামিয়া চিৎকার করার আগেই তাকে টেনেহিঁচড়ে পাশের অন্ধকার লাইব্রেরি ঘরের ভেতর নিয়ে যাওয়া হলো।

দরজাটা সশব্দে বন্ধ হতেই সামিয়া ধাক্কা দিয়ে নিজেকে ছাড়াতে চেষ্টা করলো, কিন্তু তার পিঠ গিয়ে ঠেকলো লাইব্রেরির বিশাল কাঠের বুকশেলফের সাথে। অন্ধকারের সাথে চোখ সয়ে আসতেই সামিয়া দেখলো, তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে খালি গায়ে শুধু একটা ট্রাউজার পরা রাফি। রাফির চওড়া বুকের পেশীগুলো অন্ধকারে এক আদিম সৌন্দর্য ছড়াচ্ছিল।

"তুমি পাগল হয়ে গেছো রাফি?!" সামিয়া রাগের মাথায় ফিসফিস করে উঠলো, "এই রাতে আমাকে এভাবে টেনে আনলে কেন? কেউ দেখে ফেললে..."

"কেউ দেখবে না," রাফি ধীরপায়ে এগিয়ে এলো। তার এক হাত সামিয়ার মুখের দুপাশের কাঠের তাকে চেপে বসলো। রাফির নিঃশ্বাস সামিয়ার কপালে এসে পড়তেই সামিয়ার হূৎস্পন্দন দ্রুত হতে লাগলো। "আর দেখলে কি? হবু বর তার হবু বউয়ের সাথে মাঝরাতে একটু গোপন সাক্ষাৎ করতেই পারে।"

"বন্ধ করো তোমার এই নাটক!" সামিয়া রাফির বুকে হাত দিয়ে ঠেলে সরানোর চেষ্টা করলো, কিন্তু রাফির শক্ত ছাতি যেন পাথরের দেয়াল। "আমি কাল সকালেই সবাইকে সব সত্যি বলে দেবো। বলবো তুমি আমাকে ভয় দেখিয়ে রাজি করিয়েছ!"

রাফি রহস্যময় এক হাসি হাসলো। সে সামিয়ার ধমকানো কথাকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে নিজের একটা হাত সামিয়ার পাতলা নাইটির নিচে গলিয়ে দিল। তার গরম হাতের তালু সামিয়ার খোলা পেটে লাগতেই সামিয়ার পুরো শরীর কেঁপে উঠলো।

"সত্যি বলবে?" রাফির আঙুলগুলো সামিয়ার নাভির চারপাশে গোল করে ঘুরতে লাগলো, "কী বলবে সামিয়া? যে আমি তোমাকে এভাবে ছুঁই? আর তুমি মনে মনে এটা চরমভাবে উপভোগ করো?"

"না... আমি... উফফ..." সামিয়ার মুখ দিয়ে প্রতিবাদ বের হতে গিয়েও এক মাতাল গোঙানিতে রূপ নিল।

রাফির আঙুলগুলো এবার নাইটি ঠেলে ওপরের দিকে উঠতে শুরু করলো। সামিয়ার ভেতরের কাঁচুলিহীন সুডৌল স্তনের নিচে তার বুড়ো আঙুলের চাপ লাগতেই সামিয়া চোখ বন্ধ করে লাইব্রেরির তাকে মাথা ঠুকে দিল। তার সমস্ত রাগ নিমেষেই এক তীব্র শারীরিক কামনায় মিলিয়ে যেতে লাগলো।

"দেখো সামিয়া, তোমার শরীর কখনো মিথ্যা বলে না," রাফি সামিয়ার ঘাড়ে নিজের মুখ গুঁজে দিয়ে ভেজা ঠোঁট দিয়ে কামড়ে ধরলো। "তুমি যত মুখে চিৎকার করবে, তোমার এই সুবাসিত শরীর তত বেশি আমার কাছে সমর্পণ করবে।"

রাফি সামিয়ার নাইটির স্ট্র্যাপটা একপাশে সরিয়ে দিয়ে তার ফর্সা কাঁধে নিজের ঠোঁট আর জিবের উষ্ণ ছোঁয়া দিতে লাগলো। সামিয়া দুহাতে রাফির পিঠের শক্ত পেশীগুলো আঁকড়ে ধরে নিজেকে ধরে রাখার চেষ্টা করলো। রাফির হাত ততক্ষণে নাইটি সম্পূর্ণ ওপরে তুলে সামিয়ার উন্মুক্ত প্যান্টির ওপর চেপে বসেছে। রাফির আঙুলের সুনির্দিষ্ট চাপে সামিয়ার তলপেটে এক চরম কামোত্তেজনার ঢেউ খেলে গেল।

"রাফি... প্লিজ... আর না..." সামিয়ার গলা ভেঙে আসছিল। তার পায়ের মাঝখানটা এক অদ্ভুত ভেজা উত্তাপে ভরে উঠছিল।

"তাহলে বিয়েতে রাজি?" রাফি সামিয়ার কামাতুর ঠোঁটের খুব কাছে এসে নিচু গলায় জিজ্ঞেস করলো।

"তুমি... তুমি একটা শয়তান..." সামিয়া হাপাচ্ছিল।

"ঠিক ধরেছ। আর এই শয়তানের সাথেই তোমার সারা জীবন কাটাতে হবে," বলেই রাফি তার ঠোঁট দুটো সামিয়ার রসালো ঠোঁটের ওপর চেপে বসালো।

এক মারাত্মক, তৃষ্ণার্ত চুমু। রাফির জিব সামিয়ার মুখের ভেতরে ঢুকে গিয়ে তার সমস্ত প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দিল। সামিয়াও আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। সে নিজের হাত দুটো রাফির চুলে পেঁচিয়ে ধরে রাফির ঠোঁট চুষতে শুরু করলো। লাইব্রেরির অন্ধকারে দুজনের হাঁপানির শব্দ আর ঠোঁটের চপচপ শব্দ ভারী হয়ে উঠলো। রাফি সামিয়াকে শূন্যে তুলে বুকশেলফের ওপর বসিয়ে দিল, আর নিজের শক্ত উরু দিয়ে সামিয়ার উরুর ফাঁকে গভীর চাপ দিল।

সামিয়া এক চরম অনুভূতির চূড়ায় পৌঁছে যাচ্ছিল। কিন্তু ঠিক তখনই লাইব্রেরির দরজার বাইরে কার যেন হাঁটার শব্দ পাওয়া গেল। কেউ একজন টর্চ জ্বালিয়ে করিডোর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে!

টর্চের আলো দরজার নিচের ফাঁক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করতেই সামিয়া আতঙ্কে রাফির বুক আঁকড়ে ধরলো। তার কামনার ঘোর কেটে গিয়ে চরম ভীতি এসে জমা হলো। যদি এখন দারোয়ান বা অন্য কেউ তাদের এই অবস্থায় ধরে ফেলে, তবে তো কেলেঙ্কারির আর শেষ থাকবে না!

রাফি সামিয়ার ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ থাকতে বললো। সে সামিয়াকে বুকের সাথে এমনভাবে জড়িয়ে ধরলো যেন তাদের শরীর দুটো এক হয়ে গেছে। লাইব্রেরির সেই গুমোট অন্ধকারে, দরজার ঠিক ওপাশেই কারো উপস্থিতি টের পেয়ে দুজনের বুকই ধুকপুক করছিল—একদিকে ধরা পড়ার ভয়, আর অন্যদিকে মাঝরাতের এই নিষিদ্ধ, উত্তপ্ত রোমাঞ্চ!

দরজার ঠিক ওপাশেই টর্চের আলোটা কয়েক মুহূর্ত আটকে রইলো। নাইট গার্ড মকবুল মিঞার ভারী বুটের শব্দ লাইব্রেরির দরজার সামনে এসে থেমে গেছে। সামিয়ার বুকের ভেতরটা এমনভাবে ধুকপুক করছিল যেন হৃদপিণ্ডটা এখনই বের হয়ে আসবে। সে ভয়ে রাফির খালি বুকে মুখ গুঁজে চোখ বন্ধ করে ফেললো। রাফির শক্ত দুটি হাত সামিয়ার কোমর আর পিঠ জড়িয়ে ধরে আড়াল করে রেখেছিল, কিন্তু সেই আতঙ্কের মধ্যেও রাফির উন্মুক্ত বুকের লোম আর গরম চামড়ার তীব্র পুরুষালী সুবাস সামিয়ার সমস্ত স্নায়ুকে উথাল-পাথাল করে দিচ্ছিল।

বাইরে মকবুল মিঞা তালাটা একবার নেড়েচেড়ে দেখে বিড়বিড় করে আবার হেঁটে চলে গেল। বুটের শব্দ মিলিয়ে যেতেই সামিয়া এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো।

কিন্তু ঘরের ভেতরের বিপদ তখনও কাটেনি।

সামিয়া তখনও বুকশেলফের ওপর বসে আছে, তার দুটো পা রাফির কোমরের দুপাশে জড়ানো, আর নাইটিটা উরুর অনেক ওপরে উঠে আছে। বিপদের আশঙ্কা কাটতেই আবার জেগে উঠলো সেই স্তব্ধ করে দেওয়া শারীরিক উত্তেজনা। অন্ধকার ঘরে দুজনের দ্রুত নিঃশ্বাসের শব্দ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল।

"গার্ড চলে গেছে..." সামিয়া তোতলাতে তোতলাতে বললো, কিন্তু রাফির হাত থেকে নিজেকে ছাড়ানোর শক্তি সে পাচ্ছিল না।

রাফি সরলো না। বরং সে সামিয়ার দু উরুর মাঝখানে নিজের শক্ত শরীরটা আরও গভীরভাবে চেপে দিল। তার হাতের আঙুলগুলো সামিয়ার সুডৌল উরুর ভেতরের অংশের নগ্ন চামড়ায় ধীরে ধীরে বিচরণ করতে লাগলো।

"ও গেছে, কিন্তু আমি তো যাইনি সামিয়া," রাফির ভারী কণ্ঠস্বর সামিয়ার কানে এসে আছড়ে পড়লো। "ভয় পেয়ে আমার বুকে এভাবে মিশে গিয়েছিলে যে এখন তো তোমাকে আলাদা করাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।"

"রাফি, প্লিজ... ছেড়ে দাও," সামিয়ার কণ্ঠ আকুতিতে নিভে এলো। কিন্তু তার উরু দুটো নিজের অজান্তেই রাফির কোমরকে আরও শক্ত করে চেপে ধরছিল।

রাফি আর কথা বাড়ালো না। সে সামিয়ার চিবুকটা আলতো করে উঁচিয়ে ধরে তার ভেজা, ফোলা ঠোঁটে আবার নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। এবারের চুমুটা ছিল আরও বেশি আদিম, আরও বেশি তৃষ্ণার্ত। রাফির এক হাত সামিয়ার পিঠ বেয়ে নিচে নেমে এসে তার পাতলা প্যান্টির ওপর দিয়ে নিতম্ব চেপে ধরলো। সামিয়া কামনার তীব্র সুড়সুড়িতে আঁকুপাঁকু করে উঠলো, তার গলার ভেতর থেকে এক অস্ফুট গোঙানি বের হয়ে এলো।

রাফির অন্য হাতের আঙুলগুলো সামিয়ার প্যান্টির ইলাস্টিকের ভেতরে ঢুকে গেল। গরম আর ভেজা স্পর্শে সামিয়ার পুরো শরীর ধনুকের মতো বেঁকে উঠলো। সে রাফির চুলে আঙুল চালিয়ে তাকে নিজের দিকে আরও জোরে টেনে নিল। লজ্জার সব দেয়াল তখন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। লাইব্রেরির সেই নির্জন অন্ধকারে সামিয়া নিজেকে পুরোপুরি সঁপে দিল রাফির এই অনিয়ন্ত্রিত রোমাঞ্চের কাছে।

"বলো, তুমি কার?" রাফি সামিয়ার ঘাড়ের নরম চামড়ায় কামড় দিয়ে ফিসফিস করে উঠলো, হাতের আঙুলের গতি আরও বাড়িয়ে দিল।

সামিয়া কামোত্তেজনার চরম শিখরে পৌঁছে চোখ বন্ধ করে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো, "তোমার... উফফ রাফি... আমি শুধু তোমার..."

বেশ কিছুক্ষণ পর, যখন দুজনের উত্তেজনা একটু ঝিমিয়ে এলো, রাফি সামিয়াকে বুকশেলফ থেকে নিচে নামিয়ে দাঁড় করালো। সামিয়ার পা দুটো তখনও কাঁপছিল, সে দেওয়াল ধরে নিজেকে সামলে নিল। রাফি যত্ন করে সামিয়ার নাইটির স্ট্র্যাপটা ঠিক করে দিল, আর তার কপালে এক মিষ্টি চুমু খেল।

"এখন নিজের ঘরে যাও সামিয়া। কাল সকালে আমাদের বিয়ের কেনাকাটার জন্য মার্কেটে যেতে হবে," রাফি মুচকি হেসে বললো।

সামিয়া কোনো কথা না বলে কাঁপতে থাকা পায়ে লাইব্রেরি থেকে বের হয়ে নিজের ঘরে চলে এলো। বিছানায় শুয়ে তার মনে হলো, সে একটা অচেনা ঘূর্ণাবর্তে তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে পরিবারকে সত্যিটা না বলতে পারার অপরাধবোধ, আর অন্যদিকে রাফির এই উন্মাদ করে দেওয়া শারীরিক আকর্ষণ—দুটো মিলে তাকে পাগল করে দিচ্ছে।

পরদিন সকালে খান ভিলায় কেনাকাটার শোরগোল পড়ে গেল। ফুফু সামিয়াকে ডেকে বললেন, "সামিয়া, রাফির সাথে ধানমন্ডির শপিং মলে যা। তোদের বিয়ের আংটি আর বেনারসি শাড়ি আজকেই পছন্দ করে আয়।"

সামিয়া না করতে পারলো না। বিকেলের দিকে রাফির দামি কালো সেডান গাড়িতে করে তারা দুজন বের হলো। গাড়িতে সামিয়া চুপচাপ জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল। রাফি এক হাতে স্টিয়ারিং ধরে গাড়ি চালাচ্ছিল, আর অন্য হাতটা হঠাৎ করেই এনে রাখলো সামিয়ার নগ্ন উরুর ওপর।

সামিয়া চমকে উঠে রাফির দিকে তাকালো, "গাড়ি চালাচ্ছ তো! হাত সরাও!"

"গাড়ি চালানো আর বউ সামলানো—দুটোই আমি একসাথে করতে পারি," রাফি আড়চোখে তাকিয়ে এক দুষ্টু হাসি দিল। তার আঙুলগুলো শাড়ির ফাঁক দিয়ে সামিয়ার উরুতে আলতো চাপ দিতে লাগলো।

গাড়ির এসি চলা সত্ত্বেও সামিয়ার গা ঘেমে উঠলো। সে বুঝতে পারলো, কেনাকাটা করতে গিয়ে আজ তার জন্য আরও বড় কোনো চমক বা ঝামেলা অপেক্ষা করছে!

ধানমন্ডির বিশাল শপিং মলের জমকালো ব্রাইডাল শোরুমে যখন তারা পৌঁছালো, তখন পুরো শোরুম সামিয়াদের আগমনে ব্যস্ত হয়ে উঠলো। শোরুমের ম্যানেজার নিজে এসে তাদের বসার বন্দোবস্ত করে দিলেন। লাল, জামদানি আর ভারী কাজের বেনারসির পসরা সাজিয়ে বসলো কর্মচারীরা।

মেজো ফুফু ফোনে আগেই নির্দেশ দিয়েছিলেন, বিয়ের মূল বেনারসি যেন রাফি নিজ হাতে সামিয়ার জন্য পছন্দ করে।

সামিয়া সোফায় বসে একটার পর একটা লাল শাড়ি দেখছিল, কিন্তু তার মন পড়েছিল অন্য কোথাও। রাফি তার পাশেই বেশ ভাবগাম্ভীর্য নিয়ে বসেছিল। লাল আর গাঢ় সোনা রঙের একটা রাজকীয় বেনারসি তুলে ধরে রাফি শোরুমের কর্মচারীকে বললো, "এই শাড়িটা আমার হবু বউকে ট্রায়াল রুমে গিয়ে পরে দেখতে বলুন। আমি দেখতে চাই লাল রঙে ওকে কেমন মানায়।"

সামিয়ার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল, "ট্রায়াল রুমে শাড়ি পরবো মানে? আমি তো এমনি দেখে পছন্দ করতে পারছি!"

"না সামিয়া, বিয়ের শাড়ি পরে না দেখলে ফিটিং আর লুক বোঝা যায় না," রাফি অত্যন্ত গম্ভীর মুখে এমনভাবে বললো যেন সে খুব দায়িত্বশীল এক হবু বর।

শোরুমের এক মহিলা কর্মী শাড়িটি নিয়ে সামিয়াকে ট্রায়াল রুমের দিকে নিয়ে গেল। ট্রায়াল রুমটা বেশ বড়, চারপাশে বড় বড় আয়না আর মেহগনি রঙের র্যাক। মেয়েটিকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলে সামিয়া ভেতরে ঢুকে দরজাটা হালকা টেনে দিল। নিজের সুতির কামিজটা খুলে সে যখন ব্লাউজ আর পেটিকোট পরে বেনারসিটা গায়ে জড়ানোর চেষ্টা করছিল, তখনই আলতো শব্দে ট্রায়াল রুমের দরজাটা খুলে গেল।

সামিয়া ভেবেছিল হয়তো শোরুমের মেয়েটি সাহায্য করতে এসেছে, তাই আয়নার দিকে তাকিয়েই বললো, "শাড়ির আঁচলটা একটু ধরে দেবেন?"

কিন্তু আয়নায় প্রতিবিম্ব দেখেই সামিয়ার নিঃশ্বাস আটকে গেল। দরজায় দাঁড়িয়ে স্বয়ং রাফি! সে ভেতরে ঢুকে সাবধানে ভেতর থেকে ছিটকিনিটা তুলে দিল।

"তুমি! এখানে ভেতরে কেন এলে? পাগল নাকি? বাইরে শোরুমের লোক আছে!" সামিয়া বুকের কাছে আলগা বেনারসিটা চেপে ধরে আতঙ্কে চিঁচিঁ করে উঠলো।

"শোরুমের লোক জানে যে হবু জামাই তার হবু বউকে শাড়ি পরাতে সাহায্য করতে এসেছে," রাফি এক পা এগিয়ে এলো। তার চোখে আবার সেই চেনা আচ্ছন্নতা।

রাফি সামিয়ার পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো। আয়নায় দুজনের চোখাচোখি হলো। সামিয়ার কাঁধ আর পিঠের মসৃণ চামড়া উন্মুক্ত, ব্লাউজের ফিতেগুলো আলগা। রাফি পেছন থেকে সামিয়ার উন্মুক্ত ঘাড়ে নিজের উত্তপ্ত ঠোঁট চেপে ধরলো। সামিয়ার পুরো শরীর একটা প্রবল ঝাঁকুনি দিল, তার হাত থেকে বেনারসি শাড়িটা নিচে মেঝেতে খসে পড়লো।

"রাফি... না... কেউ এসে পড়বে..." সামিয়ার গলার আওয়াজ কামোত্তেজনায় কাঁপছিল।

রাফি সামিয়ার কোনো অজুহাত শুনলো না। সে সামিয়ার ব্লাউজের আলগা ফিতে এক এক করে খুলে দিল। ব্লাউজটা খসে পড়তেই আয়নায় সামিয়ার নগ্ন পিঠ আর বুক স্পষ্ট হয়ে উঠলো। রাফি পেছন থেকে সামিয়ার পেটে হাত পেঁচিয়ে ধরে তাকে নিজের সাথে লেপ্টে নিল। তারপর তার হাত দুটো ধীরে ধীরে ওপরে উঠে এলো সামিয়ার নগ্ন বুকের ওপর।

সামিয়ার মুখ দিয়ে এক তীব্র অনুভূতির গোঙানি বের হতে গেল, কিন্তু রাফি সাথে সাথে এক হাত দিয়ে সামিয়ার মুখ চেপে ধরলো। অন্য হাতের আঙুল দিয়ে সে সামিয়ার বুক আর বোঁটায় চরম আবেশে চাপ দিতে লাগলো।

আয়নায় নিজেকে রাফির বুকের সাথে কামাতুর অবস্থায় দেখে সামিয়ার মাথা ঝিমঝিম করে উঠলো। তার তলপেটে এক অসহ্য সুড়সুড়ি আর কামনার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছিল। রাফি সামিয়ার ঘাড়ে, কানে আর পিঠে নিজের তৃষ্ণার্ত জিবের ছোঁয়া দিতে দিতে তাকে উন্মাদের মতো চুষতে লাগলো।

"বলো সামিয়া, এই বিয়েটা কি শুধুই একটা ঝামেলা? নাকি তুমিও চাও আমি সারা জীবন এভাবে তোমাকে ছটফট করাই?" রাফি সামিয়ার কানের লতিতে দাঁত দিয়ে আলতো কামড় দিয়ে ফিসফিস করে উঠলো।

সামিয়া আয়নায় রাফির চোখের দিকে তাকালো। সে আর নিজেকে মিথ্যা বলতে পারলো না। রাফির এই স্পর্শের নেশায় সে পুরোপুরি বুঁদ হয়ে গেছে। সে মুখ ঘুরিয়ে রাফির ঠোঁটে নিজের ঠোঁট চেপে ধরলো। এক গভীর, উন্মাদনাপূর্ণ চুমু। শোরুমের ছোট্ট ট্রায়াল রুমে তাদের দুজনের উন্মুক্ত শরীরের উত্তাপ আর হঁাঁপানির শব্দে বাতাস ভারী হয়ে উঠলো।

রাফি সামিয়ার পেটিকোটের ফিতে আলগা করে তার হাতের নমনীয় ছোঁয়ায় সামিয়াকে এক চরম শারীরিক তৃপ্তির শেষ সীমায় নিয়ে গেল। সামিয়া রাফির কাঁধ কামড়ে ধরে নিজের উত্তেজনা সামলালো।

দশ মিনিট পর, সামিয়া যখন কাঁপা হাতে বেনারসি শাড়িটা পেঁচিয়ে ট্রায়াল রুমের আয়নায় নিজের লাল হয়ে যাওয়া মুখ দেখছিল, রাফি তখন নিজের শার্টের কলার ঠিক করতে করতে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।

সে সামিয়ার দিকে তাকিয়ে এক মাতাল হাসি হেসে বললো, "বাহ্, লাল বেনারসিতে আমার বউকে চমৎকার লাগছে। এবার আংটিটা পরা বাকি।"

সামিয়া শুধু হাঁপাতে হাঁপাতে তার দিকে তাকিয়ে রইলো। সে বুঝতে পারলো, সে আর রাফির কাছ থেকে পালাতে চায় না। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই সামিয়ার ফোনের রিংটোন বেজে উঠলো। স্ক্রিনে ভেসে উঠলো তার পুরোনো বয়ফ্রেন্ড ফাহাদের নাম, যে গত এক বছর ধরে বিদেশে ছিল আর আজকেই ঢাকায় ফিরেছে!

ফোনের স্ক্রিনে 'ফাহাদ' নামটা দেখেই সামিয়ার গা থেকে উত্তেজনার শেষ বিন্দুটাও উবে গেল। পুরোনো প্রেমিক ফাহাদ, যে আজই দেশে ফিরেছে। কিন্তু সামিয়া যখন অপরাধবোধে ভুগে ফোনটার দিকে তাকিয়ে আছে, ঠিক তখনই রাফি তার হাত থেকে ঝটকা মেরে ফোনটা ছিনিয়ে নিল।

রাফি একপলক স্ক্রিনের দিকে তাকালো। তার গভীর চোখের মিষ্টি ভাবটা নিমেষেই মিলিয়ে গিয়ে সেখানে ফুটে উঠলো এক হিংস্র ও আধিপত্যকামী রূপ। সে ফোনটা কেটে দিয়ে এক টানে ব্যাটারির সুইচ অফ করে দিল, তারপর সেটা পকেটে পুরে নিল।

"তুমি ফাহাদের ফোন কাটলে কেন? ও তো মাত্র দেশে ফিরলো!" সামিয়া শাড়িটা টেনেটুনে সামলাতে সামলাতে রেগে গিয়ে বললো।

রাফি এক পা এগিয়ে সামিয়ার কোমর এক টানে নিজের কাছে নিয়ে এলো। তার হাতের চাপ এত শক্ত ছিল যে সামিয়ার মুখ দিয়ে আাঁকুপাঁকু শব্দ বের হয়ে এলো। রাফি একদম সামিয়ার মুখের ওপর ঝুঁকে থমথমে গলায় বললো, "আজকের পর থেকে তোমার অতীতে কে ছিল না ছিল, তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাতে চাই না। কিন্তু এই মুহূর্তে তোমার শরীরে আর তোমার শ্বাসে শুধু আমার নাম লেখা। কোনো ফাহাদ বা অন্য কেউ আমার বউয়ের ধারেকাছে ঘেঁষার চেষ্টা করলে পরিণতি ভালো হবে না, সামিয়া।"

রাফির চোখের তীব্র হিংসা আর অধিকারবোধ দেখে সামিয়া স্তব্ধ হয়ে গেল। তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক আবেশ খেলে গেল—একজন শক্তিশালী পুরুষ তাকে এভাবে নিজের করে আঁকড়ে ধরছে, এই অনুভূতি তাকে ভেতর থেকে এক চরম তৃপ্তি দিল।

তারা শপিং মল থেকে বের হয়ে সোজা আংটির দোকানে গেল। সেখানে রাফি নিজ হাতে সামিয়ার অনামিকায় হীরে বসানো সোনার আংটিটা পরিয়ে দিল। আংটি পরানোর সময় রাফি সামিয়ার আঙুলের মাথায় আড়ালে আলতো করে চুমু খেল, যা দেখে সামিয়ার শরীর আবার শিউরে উঠলো।

বাড়ি ফেরার পর রাতেই পুরো খান ভিলায় বিয়ের সানাই বেজে উঠলো। শুরু হয়ে গেল বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সামিয়াকে যখন লাল টকটকে বেনারসি, সোনার গয়না আর ভারী সাজে কনে সাজিয়ে কাজির সামনে বসানো হলো, তখন তার বুক ধুকপুক করছিল। কাজি সাহেব যখন গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করলেন, "সামিয়া খান, রাফি খানকে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে কবুল বলছেন কি না?"

সামিয়া আড়চোখে সামনে বসা রাফির দিকে তাকালো। শেহওয়ানি পরা রাফিকে কোনো রাজপুত্রের চেয়ে কম লাগছে না। তার চোখ সামিয়ার ওপর আটকে আছে। সামিয়া চোখের পাতা নামিয়ে কাঁপতা গলায় বলে উঠলো, "কবুল... কবুল... কবুল।"

রাফির মুখে এক বিজয়ের হাসি ফুটে উঠলো। সেও সশব্দে 'কবুল' বলে খাতায় সই করে দিল। দুষ্টুমি আর ভুল বোঝাবুঝি দিয়ে যে নাটকের শুরু হয়েছিল, তা আজ পূর্ণতা পেল এক পবিত্র ও গাঢ় বাঁধনে।

রাত তখন প্রায় দুটো। খান ভিলার সবচেয়ে বড় ঘরটাকে গোলাপ আর রজনীগন্ধার সুবাসে সাজানো হয়েছে বাসর ঘর হিসেবে। সামিয়া খাট বাসর বিছানায় লাল ওড়নায় মুখ ঢেকে বসে ছিল। ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দ আর নিজের হূৎস্পন্দনের শব্দে ঘরটা ভারী হয়ে আছে।

দরজা খোলার শব্দ হলো। রাফি ঘরে ঢুকে ভেতর থেকে দরজাটা লক করে দিল।

সে ধীর পায়ে হেঁটে বিছানার কাছে এলো। সামিয়ার পাশে বসে অতি যত্নে তার মাথার ওপর থেকে ওড়নাটা সরিয়ে দিল। সামিয়ার থুতনি ধরে নিজের দিকে মুখ তুলে ধরলো রাফি। সামিয়ার চোখে তখন লজ্জা, সমর্পণ আর অপরিসীম কামনার লালসা।

"অবশেষে তুমি পুরোপুরি আমার হলে, সামিয়া," রাফি নিচু ও গহীন গলায় বললো।

"তুমি সত্যি একটা আস্ত শয়তান রাফি... আমাকে একদম ফান্দে ফেলে দিলে," সামিয়া লাজুক হেসে ফিসফিস করে উঠলো।

"আর এই শয়তানটা এখন তার হবু বউকে সত্যি সত্যি নিজের স্ত্রী হিসেবে লাভ করেছে," রাফি এক টানে সামিয়াকে নিজের কোলে তুলে নিল।

সামিয়া দুহাতে রাফির গলার পেছনটা জড়িয়ে ধরলো। রাফি সামিয়ার গয়নাগুলো এক এক করে খুলে ফেলে দিতে লাগলো। তার উষ্ণ ঠোঁট আছড়ে পড়লো সামিয়ার উন্মুক্ত সুডৌল বুকে, পেটে আর উরুতে। বেনারসির ভারী কাপড়ের বাধা সরিয়ে রাফি যখন সামিয়ার নগ্ন শরীরের ওপর নিজেকে সম্পূর্ণ সঁপে দিল, সামিয়ার মুখ থেকে এক চরম তৃপ্তির সুধা-ঝরা চিৎকার বের হয়ে এলো।

দুষ্টুমির ছলে যে আগুনের খেলা শুরু হয়েছিল, বাসরের নিঝুম রাতে তা রূপ নিল এক অনন্ত, উন্মাদ ও তীব্র রোমাঞ্চকর ভালোবাসার পরিণতিতে।

বাসর রাতের সেই উন্মাদময় আর উত্তপ্ত প্রহরগুলোর পর ভোরের আলো যখন সাজানো ঘরের জানালা গলিয়ে বিছানায় এসে পড়লো, সামিয়ার চোখ তখন আলতো করে খুলে গেল। তার সমস্ত শরীরে এক অপূর্ব শিহরণ আর মিষ্টি ব্যথা। পাশে তাকিয়ে দেখলো রাফি গাঢ় ঘুমে আচ্ছন্ন, তার একটা চওড়া ও শক্ত হাত সামিয়ার উন্মুক্ত কোমরে রাজকীয় ভঙ্গিতে চেপে আছে। সামিয়া আলতো করে রাফির মুখের দিকে তাকালো—কাল রাতের সেই হিংস্র কামুক রূপটা এখন উধাও, সেখানে ভাসছে এক প্রশান্ত আভিজাত্য।

সামিয়া রাফির হাতটা সরিয়ে আস্তে করে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতে গেল, কিন্তু উরুর ভেতরের তীব্র টানে মুখ থেকে অস্ফুট এক গোঙানি বের হয়ে এলো।

রাফি সাথে সাথেই চোখ খুললো। তার গভীর চোখ দুটো সামিয়ার ওপর স্থির হতেই এক দুষ্টু হাসি ফুটে উঠলো ঠোঁটের কোণে। সে এক ঝটকায় সামিয়ার উন্মুক্ত কোমর পেঁচিয়ে ধরে তাকে আবার নিজের বুকের ওপর ফেলে দিল।

"উফফ রাফি! ছাড়ো না! সকাল হয়ে গেছে, নিচে সবাই অপেক্ষা করছে!" সামিয়া রাফির বুকে হাত দিয়ে ফিসফিস করে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলো। তার নগ্ন শরীরের স্পর্শে রাফির সুগঠিত ছাতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল।

"নিচে সবাই জানে যে খান বাড়ির নতুন জামাই তার নতুন বউকে সকালে এত সহজে ঘর থেকে বের হতে দেবে না," রাফি সামিয়ার পিঠ বেয়ে হাত নিচে নামিয়ে তার উন্মুক্ত নিতম্বে এক আলতো চাপ দিল। সামিয়া শিউরে উঠে রাফির গলায় মুখ লুকালো।

"তুমি সত্যি একটা নির্লজ্জ শয়তান," সামিয়া কামাতুর চোখে রাফির দিকে তাকালো।

রাফি সামিয়ার রসালো ঠোঁটে এক দীর্ঘ, ভিজে চুমু খেয়ে বললো, "আর এই শয়তানের সাথেই তোমাকে সারা জীবন কাটাতে হবে, মিসেস সামিয়া রাফি খান।"

বেলা এগারোটার দিকে সামিয়া যখন লাল-হলুদ মেশানো একটা সুতির শাড়ি পরে নিচে নামলো, তখন ড্রয়িং রুমে আত্মীয়স্বজনের গমগমে ভাব। মেজো ফুফু সামিয়ার ভেজা চুল আর গলার লালচে দাগ দেখে একগাল হেসে উঠলেন, "ওরে আমার নতুন বউরে! মুখটা দেখেছিস? যেন একদম পূর্ণিমার চাঁদ ফুটছে! রাফি তো তোকে একদম নিংড়ে নিয়েছে রে!"

ফুফুর কথায় সামিয়ার কান গরম হয়ে উঠলো। সে লজ্জায় মুখ নিচু করে রইলো।

কিন্তু সেই আনন্দের মুহূর্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। খান ভিলার বিশাল প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে পা বাড়ালো ফাহাদ। ফাহাদের পরনে কালো শার্ট, চোখ মুখ গম্ভীর। সামিয়া ফাহাদকে দেখে একদম জমে কাঠ হয়ে গেল।

ফাহাদ সোজা এসে বড় চাচার সামনে দাঁড়ালো, "আসসালামু আলাইকুম চাচা। আমি সামিয়ার সাথে একটু কথা বলতে এসেছি।"

পুরো ড্রয়িং রুমের বাতাস যেন এক মুহূর্তে ভারী হয়ে গেল। ফুফু আর চাচা অবাক চোখে ফাহাদের দিকে তাকালেন। সামিয়া আতঙ্কে আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো, তার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছে। ফাহাদ যদি এখন সবার সামনে তাদের পুরোনো সম্পর্কের কথা বলে দেয়, তবে তো চরম কেলেঙ্কারি হবে!

ঠিক সেই মুহূর্তে সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলো রাফি। ধবধবে সাদা পাজামা- পাঞ্জাবি পরা রাফির চেহারায় এক মারাত্মক থমথমে গম্ভীর ভাব। সে ধীরপায়ে হেঁটে এসে সামিয়ার ঠিক পেছনে দাঁড়ালো, অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তার এক হাত সামিয়ার শাড়ির ফাঁক দিয়ে উন্মুক্ত কোমরে চেপে বসালো।

রাফির স্পর্শে সামিয়া কিছুটা স্বস্তি পেলেও তার ভয় কাটছিল না। রাফির আঙুলগুলো সামিয়ার কোমরে এমনভাবে বসে গেল, যেন সে পুরো পৃথিবীর সামনে নিজের অধিকার জাহির করছে।

"কী ব্যাপারে কথা বলতে চাও ফাহাদ?" রাফি একদম ঠান্ডা আর ধারালো গলায় প্রশ্ন করলো।

ফাহাদ রাফির দিকে তাকালো, তারপর সামিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে তোতলাতে লাগলো, "সামিয়া... তুমি এত তাড়াতাড়ি বিয়েটা করে ফেললে? তুমি তো আমাকে একটা ফোনও করোনি! আমাদের মাঝে যা কিছু ছিল..."

"আমাদের মাঝে যা ছিল তা অতীত, ফাহাদ," সামিয়া রাফির হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে সাহসী গলায় বলে উঠলো। সে বুঝতে পেরেছে, রাফিই তার একমাত্র আশ্রয়। "আমি এখন রাফির বিবাহিত স্ত্রী। আর আমি আমার স্বামীকে প্রচণ্ড ভালোবাসি।"

কথাটা শুনে রাফির চোখে এক অদ্ভুত বিজয়ের আলো জ্বলে উঠলো। কিন্তু ফাহাদ সেটা সহ্য করতে পারলো না। সে এগিয়ে এসে সামিয়ার হাত ধরতে গেল, "তুমি মিথ্যা বলছো সামিয়া! তুমি এই বিয়েটা চাপে পড়ে করেছ!"

কিন্তু ফাহাদ সামিয়ার হাত ছোঁয়ার আগেই রাফি এক ঝটকায় ফাহাদের শার্টের কলার ধরে ফেললো। রাফির চোখের দৃষ্টি তখন হিংস্র বাঘের মতো ভয়ঙ্কর।

"আমার বউয়ের দিকে হাত বাড়ানোর দুঃসাহস আর কখনো দেখাবি না, ফাহাদ!" রাফি অত্যন্ত নিচু কিন্তু গর্জনশীল গলায় বললো, "সামিয়া এখন খান বাড়ির বউ, আর সবচেয়ে বড় কথা—ও আমার। এখান থেকে ভালোয় ভালোয় বিদায় হ, নইলে পুলিশে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।"

বড় চাচা আর ফুফুরাও ফাহাদের ওপর চটে উঠলেন। অপমানিত হয়ে ফাহাদ আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে দ্রুত পা চালিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল।

ঝামেলা চুকে যেতেই সামিয়া এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোফায় বসে পড়লো। তার হাত দুটো তখনও কাঁপছিল। সবাই যার যার কাজে চলে গেলে রাফি সামিয়ার হাত ধরে টেনে তাকে সোফা থেকে তুলে সোজা নিজের স্টাডি রুমে নিয়ে গেল।

রুমে ঢুকে রাফি সশব্দে খিল এঁটে দিল। তারপর সামিয়াকে এক টানে ওয়ালের সাথে চেপে ধরলো। রাফির মুখ দেখে মনে হচ্ছিল তার ভেতরের হিংসা আর ক্ষোভ এখনও শান্ত হয়নি।

"তুমি ওর সামনে বললে যে তুমি আমাকে ভালোবাসো?" রাফি সামিয়ার চিবুক শক্ত করে ধরে নিচু গলায় জিজ্ঞেস করলো। তার চোখ দুটো সামিয়ার ওপর কামোত্তেজনা আর রাগে জ্বলজ্বল করছিল।

"হাঁ... সত্যিটাই তো বলেছি," সামিয়া রাফির চোখের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে উঠলো।

"তাহলে প্রমাণ করো," রাফি এক টানে সামিয়ার শাড়ির আঁচলটা মেঝেতে ফেলে দিল। তার শক্ত হাত সামিয়ার ব্লাউজের ওপর চেপে বসলো, "আমাকে প্রমাণ করে দেখাও যে তোমার এই সুবাসিত শরীর আর মন—দুটোই এখন শুধু রাফির দখলে।"

সামিয়া আর কোনো কথা না বলে রাফির শার্টের বোতামগুলো খুলতে শুরু করলো। লাইব্রেরি বা ট্রায়াল রুমের ভয় এখন আর তাদের মাঝে নেই; এখন আছে শুধু স্বামী-স্ত্রীর এক চরম, অনিয়ন্ত্রিত ও রোমাঞ্চকর ভালোবাসার তীব্র ক্ষুধা!

....
👁 85